হাসপাতালের ভবন তুলতে পুকুর ভরাট, তদন্ত কমিটির পরিদর্শন

মাদারীপুরের শিবচরে পুকুর ভরাটের ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইন লঙ্ঘন করে সরকারি পুকুরটি ভরাট করা হয়েছে।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তদন্ত কমিটির প্রধান রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটনের নেতৃত্ব তিন সদস্যের একটি দল পুরো হাসপাতালটি ঘুরে দেখে এবং সংশ্লিষ্ট সবার লিখিত বক্তব্য নেয়।
পরিবেশ আইন-১৯৯৫ ও জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০–এর বিধান অনুসারে যেকোনো জলাশয় ভরাট নিষিদ্ধ। ব্যক্তিগত পুকুর হলেও তা জলাধারের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তা ভরাট করা যাবে না।

 

স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় সম্প্রসারণ করতে কাজ শুরু করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। হাসপাতালটি সম্প্রসারণ ও আধুনিক করতে পুরোনো দুটি ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভবন সম্প্রসারণের নামে গত আগস্টের মাঝামাঝি হাসপাতালের ভেতরে থাকা প্রায় দুই বিঘার একটি পুকুর ভরাট করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। পুকুর ও জলাশয় ভরাট আইনের বিধিনিষেধ থাকার পরও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এটি ভরাট করে। একই সঙ্গে দরপত্র ছাড়াই কাটা হয় হাসপাতালের ভেতরে থাকা সরকারি চারটি বড় গাছ।

এ নিয়ে গত ২৩ আগস্ট প্রথম আলোয় ‘ভবন তুলতে পুকুর ভরাট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পান মাদারীপুরের সিভিল সার্জন মো. সফিকুল ইসলাম।

পরে ৩১ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে প্রধান করে রাজবাড়ী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এস এম হান্নান ও রাজবাড়ী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার নুজহাত সুলতানাকে সদস্য করা হয়। তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও সময়মতো সেটা করা সম্ভব হয়নি। কারণ, এখানে অনেকগুলো পক্ষ আছে। ঠিকাদার আছে, স্বাস্থ্য বিভাগ আছে, স্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিভাগ আছে। আমরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিটি বিভাগের লিখিত বক্তব্যসহ স্বাক্ষর নিচ্ছি। হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। হাসপাতালের নকশাসহ সব ধরনের নথি আমরা নিয়ে আসছি।’

ভবন তুলতে পুকুর ভরাটের কারণ জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, ‘আমরা সবই দেখলাম। আমরা তথ্য–প্রমাণও পেলাম। এখানে দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষের দায়িত্বে হাসপাতালটি। আমরা তাঁরও লিখিত বক্তব্য নিয়েছি। আমরা এসব বিষয় নিয়ে এখন পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব। সে ক্ষেত্রে একটু সময় লাগবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুকুরটি পুনরায় খননের পক্ষে তদন্ত কমিটি। তাই আপাতত পুকুরের জমিতে কোনো ভবন তোলা হচ্ছে না। পুকুরের পাশে খালি জমিতে ভবন নির্মাণ করা হবে। পুকুরটি ভরাটে যে বালু ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো ভবন নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত হবে।’

তথ্য সুত্রঃ প্রথম আলো।

;