ভ্যাট প্রত্যাহার হলেও প্রত্যাশা পূরণ হয় নি - ছাত্র ইউনিয়ন


আজ (১৪ সেপ্টেম্বর), ২০১৫ সালের এই দিনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের যৌক্তিক দাবি আদায় করে নেয়। এই দিনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারের চাপিয়ে দেয়া ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন সফলতা পায়।  ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনের ৬ বছর পূর্তিতে "নো ভ্যাট অন এডুকেশন" আন্দোলনকারীদের শুভেচ্ছা ও ৯ দফা দাবি জানায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন,বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সংসদ।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের আহবায়ক সৈয়দ মেহরাজ কবির ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনের ৬ বছর পূর্তিতে "নো ভ্যাট অন এডুকেশন" আন্দোলনকারীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ভ্যাট প্রত্যাহার হলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র স্বার্থ রক্ষার প্রত্যাশা পূরণ হয় নি। আমরা এই অর্থ বছরের বাজেটে প্রত্যাশা  করেছিলাম এবারের বাজেট হবে শিক্ষা ও শিক্ষার্থীবান্ধব।কিন্তু গত (৩/৬/২১ ইং) ২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও কলেজ সমূহের উপরে ১৫% কর আরোপের প্রস্তাবণা দেয়। ২০১৫ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থীদের উপর এই ভ্যাট চাপানোর চেষ্টা করলেও ২০২১ সালে এসে সেটা ট্যাক্স এর নামেআদায় করার পায়তারা করা হচ্ছে। ঘুরে ফিরে ছাত্রদের উপরেই বর্তাবে এই ট্যাক্স। বিগত ২০১০এবং ২০১৫ সালে দেখেছেন বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্হার উপরে সরকারের যে অযৌক্তিক ভ্যাট চাপানোর চেষ্টা তার বিরুদ্ধে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরব ছিলো এবং বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্হাকে পণ্যে রূপান্তর করার যে অপচেষ্টা তা রুখে দিয়ে ২০১৫ সালে সরকারকে ভ্যাট প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছিল। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে "বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ সম্পূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে। যদি তাই হয় তবে কি করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মালিক পক্ষ মুনাফা অর্জন করে? ২০১০ সালের আইন অনুযায়ী বলা চলে, বেসরকারিবিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মালিক পক্ষ যে মুনাফা অর্জন করছে তা সম্পূর্ণ রূপে অবৈধ। প্রস্তাবিত১৫% করের মাধ্যমে সরকার ঐ অবৈধ মুনাফা অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে এবং অবৈধ মুনাফাকে বৈধ করার চেষ্টা করছে। এছাড়াও আমরা দেখতে পাচ্ছি শিক্ষাখাতে প্রস্তাবিত বাজেট বিগত বাজেটের মোট জিডিপির তুলনায় ০.০৩৬% কমেছে। এই বাজেট কোনভাবেই শিক্ষাবান্ধব বাজেট হতে পারেনা৷ আমরা শিক্ষাখাতে মোট জিডিপির ৮ ভাগ দাবী করছি৷ এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ২০১০এর খসড়া আইনের ৪২ ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে টিউশন ফি নির্ধারণ করতে হবে।কিন্তু তাঁর বাস্তবায়ন কতদুর? ১০৭ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফির ভিন্নতা আছে। আমরা দেখছি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি। চাকুরিরবাজারে এই গ্রেডিং পদ্ধতির ভিন্নতা সম্পর্কে নিয়োগকর্তাদের অনেকেরই স্বচ্ছ ধারনা না থাকাটা বৈষম্যমূলক পরিবেশ সৃষ্টি করে। ২০০৬ সালে অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি তৈরি করে ইউজিসি।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তা বাধ্যতামূলক মূল্যায়নের নির্দেশনা দেয়া হলেও বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তা মানছে না।

 দাবিসমূহঃঅবিলম্বে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর আরোপিত ১৫% কর প্রত্যাহার করতে হবে, দেশের প্রকৃত আর্থ সামাজিক অবস্হা বিবেচনা করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েঅভিন্ন টিউশন ফি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে,অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করতে হবে,শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে নিজস্ব ক্যাম্পাসেশিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে,আবাসনের সু ব্যবস্হা,ন্যায্য মূল্যে ক্যান্টিনের খাবার এবং শিক্ষার্থীদের পরিবহনসুবিধা নিশ্চিত করতে হবে,গেষ্ট শিক্ষকদের সংখ্যা কমিয়ে স্হায়ী শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়াতেহবে,গবেষণা খাতেশিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে হবে এবং গবেষণা ব্যয় বাড়ানো ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা সুনিশ্চিতকরতে হবে,ক্যাম্পাসে দেশীয়সংস্কৃতির বিকাশ সুনিশ্চিত করতে হবে,স্বাধীনতার পক্ষের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনসমূহের মতাদর্শিক চর্চার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে,বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।  

;