গোয়েন্দা কার্যালয়ে মুসা বিন শমসের

বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরকে (প্রিন্স মুসা) জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বিকালে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ঢাকার মিন্টো রোডে গোয়েন্দা কার্যালয়ে যান তিনি।

সচিব পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার আব্দুল কাদেরের সঙ্গে মুসা বিন শমসেরের যোগাযোগ ও লেনদেনের তথ্য পেয়েছিলেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এর সূত্র ধরে তাকে হাজির হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার হারুন অর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতারক আব্দুল কাদেরের সঙ্গে মুসা বিন শমসেরের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সম্পর্কের চুক্তিপত্রসহ নানান তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সূত্র জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সহায়তায় গত ৭ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার প্রতারককে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। তারা হলো, আব্দুল কাদের চৌধুরী, শারমিন চৌধুরী ছোঁয়া, শহিদুল আলম ও আনিসুর রহমান। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলিসহ একটি ওয়াকিটকি, একটি প্রাডো গাড়ি, অতিরিক্ত সচিবের অফিসিয়াল আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ডসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়। 

গ্রেফতার চার প্রতারকের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি অস্ত্র মামলা ও তেজগাঁও থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুটি মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ। 

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, আব্দুল কাদের চৌধুরীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নবম শ্রেণি পর্যন্ত। কিন্তু তিনি অতিরিক্ত সচিব পরিচয় দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। রাজধানীর গুলশানে জব্বার টাওয়ারে তার একটি কার্যালয় রয়েছে। সেখানে বসেই তিনি বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। তার সঙ্গে দেখা করানোর জন্য সহযোগীরা ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত টাকা নিতেন। 

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ঢাকা ট্রেড করপোরেশন, জমিদার ট্রেডিং, সামীন এন্টারপ্রাইজ, চৌধুরী গ্রুপ, হিউম্যান ইম্প্রুভমেন্ট ফাউন্ডেশন, সততা প্রপার্টিজ, ডানা লজিস্টিকস, ডানা মটর্স নামে আব্দুল কাদের চৌধুরীর নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোর কথা বলেই তিনি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সালে তিনি সরকারি বাড়ি বরাদ্দ দেওয়ার নামে সারাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, সরকারের বড় বড় বিভিন্ন প্রকল্প ও সেনাবাহিনীর প্রকল্পগুলোর ভুয়া ওয়ার্কঅর্ডার নিজের প্রতিষ্ঠানের নামে বানিয়ে প্রচার করতো আব্দুল কাদের। ফলে মানুষ তাকে বড় ঠিকাদার বা ব্যবসায়ী ভাবতো। 

আব্দুল কাদেরের প্রতিষ্ঠানে মুসা বিন শমসেরের সঙ্গে তার একাধিক ছবি টানানো রয়েছে। মুসা বিন শমসরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে সমস্যা হবে না বলে প্রতারণা করতেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতারক আব্দুল কাদের চৌধুরীর কাছ থেকে মুসা বিন শমসের ও তার স্ত্রীর সঙ্গে করা কিছু চুক্তিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মুসা বিন শমসেরের সঙ্গে তার ২০ কোটি টাকা লেনদেনের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। কীসের ভিত্তিতে এসব লেনদেন করা হয়েছে তা জানতেই মূলত মুসা বিন শমসেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তথ্য সুত্রঃবাংলা ট্রিবিউন।

;