যারা অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ করে, তারা ফিতনা সৃষ্টিকারী: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, উপমহাদেশে কোনো যুদ্ধবিগ্রহের মাধ্যমে ইসলাম বিস্তার লাভ করেনি। ওলি-আম্বিয়ারা মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে, বুঝিয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে এনেছেন। তাই যারা ইসলামের কথা বলে ওলি-আম্বিয়াদের বিরোধিতা করে, হানাহানিতে লিপ্ত হয়, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ করে, তারা ফিতনা সৃষ্টিকারী। এদের রুখে দাঁড়াতে হবে।

আজ বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত জশনে জলুশ ও শান্তি মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পৃথিবীতে হানাহানি ও দলাদলি বন্ধ করে মানুষকে সুপথে এনে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন মহানবী (সা.)। ইসলামের মূল মর্মবাণী মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি স্থাপন করা। যারা এই মর্মবাণী ধারণ করে, তারা কখনো জঙ্গি হয় না, হানাহানিতে লিপ্ত হয় না, ইসলামের নামে কারও ওপর আক্রমণ করে না। কারণ রাসুল (সা.) কখনো ধর্মের নামে কারও ওপর আক্রমণের শিক্ষা দেননি, ইসলাম কখনো সে শিক্ষা দেয় না।’ কিন্তু ইসলামের এই মর্মবাণী থেকে সরে গিয়ে আজ অনেকে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ওলি-আম্বিয়াদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তরুণদের বিপথগামী করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর পূর্বপুরুষেরা ইরাকের বাগদাদ থেকে ধর্মপ্রচারের জন্য এ দেশে আসেন। এ দেশ যেমন মুসলিমদের, তেমনই হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা পেয়েছি। তাই দেশের শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য বজায় রাখতে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।’

আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের এ দেশে ঠাঁই হবে না। সরকার তাদের কঠোর হস্তে দমন করবে।
পীরগঞ্জে সফররত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান অনলাইনে যুক্ত হয়ে সমাবেশের মাধ্যমে দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়
এদিকে বিকেলে রাজধানীর বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসবে যোগ দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, এ দেশ আমাদের সবার। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকল ধর্মের মানুষের মিলিত রক্তস্রোতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হিসেবে অম্লান রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় তিথিতে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও জনহিতের বাণী শান্তি ও সম্প্রীতির দিশারি।

বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত ধর্মমিত্র মহাথেরোর সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া এবং আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য সুত্রঃ প্রথম আলো। 

;