চীনে নতুন বাড়ির দাম কমেছে


চীনে সম্পত্তির বাজারের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানেই জানা গেছে, অক্টোবর মাসে দেশটিতে নতুন বাড়ির দাম ২০১৫ সালের পর সবচেয়ে বেশি কমেছে। এমনকি জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত দেশটিতে নতুন বাড়ি নির্মাণের সংখ্যাও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।

মূলত বৃহৎ আবাসন কোম্পানি এভারগ্র্যান্ড ঋণ কয়েক দফা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় চীনের আবাসন খাতে এই মন্দাভাব তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য দেশ যখন কোভিড সংকট কাটিয়ে ওঠার পথে, তখন চীনে আবার নতুন করে কোভিডের প্রাদুর্ভাব তৈরি হয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ-সংকট। ব্যাপারটা হলো আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে চীনে শীতকালীন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে। সে জন্য বেইজিংসহ বড় বড় শহরের বায়ুদূষণ কমাতে চীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন আপাতত বন্ধ রেখেছে। সে জন্য তৈরি হয়েছে বিদ্যুৎ-সংকট। অনেক স্থানেই বন্ধ আছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। স্বাভাবিকভাবেই অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়ছে।

এসবের ধাক্কায় অক্টোবর মাসে চীনে নতুন বাড়ির দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে গেছে, যা ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর সর্বোচ্চ। এ ছাড়া সে বছরের মার্চ মাসের পর এবারই বাড়ির দাম প্রথম কমল।

এভারগ্র্যান্ডের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার প্রভাব সারা বিশ্বের আর্থিক খাতেই অনুভূত হবে, এমন আশঙ্কা অনেকেই করছিলেন। তাঁরা লেহম্যান ব্রাদার্সের সঙ্গে মিল খুঁজছিলেন এভারগ্র্যান্ডের। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের নামী ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক হিসেবে লেহম্যান ব্রাদার্সকে সবাই একনামে চিনত। তবে ৬০ হাজার কোটি ডলার ঋণের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে ২০০৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে এই ব্যাংক। তারা জানায়, ওই ঋণ আর শোধ করতে পারবে না তারা। এরপর ২০০৭-০৮ সালের আর্থিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। তবে এভারগ্র্যান্ড লেহম্যান ব্রাদার্স হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর হারুহিকো কুরোদা বলেছেন, এভারগ্র্যান্ডের আন্তর্জাতিক ঋণের পরিমাণ খুব বেশি নয়। ফলে সারা বিশ্বে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে, তেমন সম্ভাবনা কম।

তথ্য সুত্রঃ প্রথম আলো। 

;