জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের বিদায়পর্ব শুরু


জার্মানির রাজনীতিতে একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর বিদায় নিচ্ছেন জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জার্মানির রাজধানী বার্লিনে তাঁর বিদায়পর্ব শুরু হয়েছে।

বার্লিনে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভবন চত্বরে মশাল জ্বালিয়ে সামরিক বাদ্য বাজিয়ে এই বিদায়পর্ব অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে ম্যার্কেল আবেগঘন বক্তব্য দেন।
 ম্যার্কেল বলেন, তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। বিশেষভাবে যাঁরা চলমান করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, সেই সব চিকিৎসক, নার্স, টিকা প্রদানকারীসহ সংশ্লিষ্টদের তিনি ধন্যবাদ জানান।

করোনা মহামারি পরিস্থিতি সম্পর্কে ম্যার্কেল বলেন, এখনো অনেকে বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতাকে অস্বীকার করছে। করোনা-সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করছে। আন্দোলন করছে। বিষয়টি দুঃখজনক।

গণতন্ত্র রক্ষায় ঘৃণা, সহিংসতা ও ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে আহ্বান জানান ম্যার্কেল। তিনি বলেন, গণতন্ত্রী হিসেবে সহনশীলতার সীমা খুঁজে বের করতে হবে।
১৬ বছর ক্ষমতায় আসীন থাকার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ম্যার্কেল বলেন, সময়টা অত্যন্ত ঘটনাবহুল ছিল। ছিল চ্যালেঞ্জিং। তবে মানবিকতাকে ধারণ করেই তিনি তাঁর রাজনীতি করেছেন।

ম্যার্কেল তাঁর উত্তরাধিকারী ওলাফ শলৎ ও তাঁর আসন্ন সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি তাদের ভবিষ্যতে সব সময় অন্যের চোখ দিয়ে অভ্যন্তরীণ ও বিশ্ব সমাজ-রাজনীতিকে দেখতে বলব। তবেই প্রকৃত পরিস্থিতি অনুধাবন করা সহজ হবে।’
ওলাফ শলৎ ও তাঁর আসন্ন সরকারের জন্য শুভকামনা জানান ম্যার্কেল। আগামী সপ্তাহেই জার্মানিতে নবগঠিত জোট সরকার শপথ গ্রহণ করবে।

১৯৫৪ সালে হামবুর্গে জন্মগ্রহণ করেন ম্যার্কেল। জন্মের পরই তিনি তাঁর ধর্মযাজক পিতার সঙ্গে পশ্চিম থেকে পূর্ব জার্মানিতে চলে যান।

১৯৮৯ সালের শেষ দিকে পূর্ব জার্মানির সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তখন ম্যার্কেল সেখানকার গণতান্ত্রিক জোটের মুখপাত্র হন।

১৯৯০ সালে পূর্ব জার্মানির সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী লোথার ডে মেসায়ারের সরকারের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পান ম্যার্কেল।

পদার্থবিদ্যার কৃতী ছাত্রী ম্যার্কেল একই বছর সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর হেলমুট কোহলের হাত ধরে ঐক্যবদ্ধ জার্মানির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। হেলমুট কোহলের মন্ত্রিসভায় ১৯৯১ সালে তিনি পরিবারবিষয়ক মন্ত্রী হন। ১৯৯৪ সালে তিন পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৮ সালে ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দলের সাধারণ সম্পাদক হন ম্যার্কেল। ২০০০ সালে হন দলটির সভানেত্রী।

ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দলে হেলমুট কোহল–পরবর্তী সময়ে অনেক ঝানু রাজনীতিক থাকলেও ম্যার্কেল তাঁর আপন প্রতিভায় সবাইকে পেছনে ফেলে জার্মানির রাজনীতিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করেন।

দীর্ঘ সময় ধরে ম্যার্কেল অভ্যন্তরীণ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির অঙ্গনে অত্যন্ত মানবিক, সহনশীল, জনপ্রিয় রাজনীতিক বলে পরিচিত।

তথ্য সুত্রঃ প্রথম আলো।

;