করোনাযুদ্ধে চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের অবদান উপলব্ধি করুন:প্রতিক ইজাজ

প্রতি কর্তব্যরত পুুলিশের বিরুদ্ধে চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের হয়রানির প্রতিবাদে সোচ্চার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক সংগঠন ও চিকিৎসকরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, দাফতরিক কার্যক্রম এবং চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে যাতায়াতের সময় প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শনের পরেও অনেকেই নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ, ওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন) শাখা হয়রানির প্রতিবাদ করেছে।

১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিধিনিষেধের গতকাল পযন্ত পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীরাও এমন হয়রানি ও পুলিশের কটুক্তির শিকার হয়েছেন। দেশ রূপান্তরের এক সহকর্মীর গাড়ির কাগজপত্র আপডেট না থাকায় এক পুলিশ কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে ১২শ টাকা জরিমানা করে। এটা আইন। কিন্তু ওই সহকর্মীকে চাইলে ছেড়ে দিতে পারতেন ওই পুলিশ। কারণ ওই সহকর্মী তার লাইসেন্স কয়েকদিনের মধ্যেই পেয়ে যাবেন। সেটা বললেও তাকে ছাড় দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া আরো কয়েকজন সাংবাদিক পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানীর অভিযোগ এনেছেন।

সাংবাদিক সংগঠনগুলোর উচিত এসব হয়রানীর প্রতিবাদ করা এবং সংবাদকর্মীদের নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতার আহ্বান জানানোর।

এমনিতেই মানুষ নানা কষ্টে আছে। একমাত্র সরকারি চাকুরিজীবীরা ছাড়া অন্য সব পেশার মানুষ অর্থকষ্টে ভুগছেন। মধ্যবিত্তরা বলতে পারছেন না। চেয়েচিন্তেও চলতে পারছেন না নিম্নআয়ের মানুষ।

চিকিৎসক ও সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, বিশেষ করে চিকিৎসকরা আক্রান্ত ও মৃত্যুর খুবই কাছে থেকে প্রতিদিন লড়ে যাচ্ছেন করোনার বিরুদ্ধে। এই মুহুর্তে করোনাযুদ্ধে এই দুই পেশার মানুষই সবচেয়ে বেশি সংক্রমন ঝুঁকিতে। এই উপলব্ধি খুব কম মানুষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে।

একজন চিকিৎসক ও সাংবাদিক রাস্তাঘাটে, লকডাউনে কতটুকু নিয়ম ভাঙতে পারে? খুব বেশি হলে গাড়ি, মোটরসাইকেলের কাগজপত্রে ঝামেলা থাকতে পারে, ভুলে আইডি কার্ড সঙ্গে না-ও রাখতে পারেন- এই তো। নিশ্চয় নিছক আড্ডা দিতে, রঙ্গতামাশা করতে, বা লকডাউনকে অবহেলা অবজ্ঞা করার জন্য এই দুই পেশার মানুষ রাস্তায় নামবে না। এই বোধটুকু অন্তত আনুন।

প্রতিক ইজাজ 

সিনিয়র সাংবাদিক

;