গ্রাহকের কাছে নিয়ে গেছে এজেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং

বৈধ চ্যানেল বা পথে জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো। তবে এর আগ থেকেই দেশে প্রবাসী আয় আসা শুরু করে। ’৭০–এর দশকে ড্রাফটের মাধ্যমে প্রবাসী আয় আসত, যা সংগ্রহ করতে এক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেত। আর এজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী আয় আসা শুরু হয় ’৮০–এর দশকে। তখনো প্রবাসী আয়ের অর্থ প্রবাসীদের স্বজনদের কাছে পৌঁছাতে বেশ সময় লাগত। এরই ধারাবাহিকতায় ’৯০–এর দশকে ব্যাংক হিসাবে রেমিট্যান্স আসা শুরু হয়। সেই সুবাদে প্রবাসী আয় সংগ্রহে ভোগান্তি কমতে শুরু করে।

এখন তো প্রবাসী আয় আসছে বাড়ির পাশের এজেন্ট ব্যাংকিং ও বিকাশ-রকেটের মতো মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবেও। রেমিট্যান্স আয় আসার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রাহকের মুঠোফোনে চলে যাচ্ছে খুদে বার্তা। ফল তাৎক্ষণিকভাবেই গ্রাহক তাঁর মুঠোফোনে দেখতে পাচ্ছেন কত টাকা এসেছে। আবার নিজ হিসাবে টাকা থাকায় কোনো ঝুঁকিও নেই।

এভাবে এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবার (এমএফএস) মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশে তাঁদের স্বজনদের কাছে নিমেষেই পৌঁছে যাচ্ছে।

প্রবাসী আয় সংগ্রহের শুরু থেকেই ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল কে কত কম সময়ে প্রবাসীদের স্বজনদের কাছে টাকা পৌঁছাতে পারে। যারা দ্রুত সেবা দিতে পেরেছে, তারাই প্রবাসী আয় সংগ্রহে এগিয়ে গেছে। অর্থাৎ যে ব্যাংক সেবা নিয়ে গ্রাহকের যত কাছে পৌঁছাতে পেরেছে সেটি প্রবাসী আয় সংগ্রহ ও বিতরণে তত এগিয়ে গেছে।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমেদ চৌধুরী শুরু থেকেই প্রবাসী আয় সংগ্রহে ব্যাংকগুলোর তৎপরতা প্রত্যক্ষ করে এসেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুরু থেকে ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের স্বজনদের কাছে দ্রুত টাকা পৌঁছে দিতে চেষ্টা করেছে। প্রথম দিকে অনেক সময় লেগে যেত। এরপর ব্যাংকগুলো বিভিন্ন এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি করে টাকা আনার পথ সহজ করে। ধীরে ধীরে এখন মুহূর্তেই টাকা চলে আসছে।’

হেলাল আহমেদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘ব্যাংকের শাখা গ্রাহকের ততটা কাছে পৌঁছাতে না পারলেও এজেন্ট ব্যাংকিং তাঁদের বাড়ির পাশে চলে গেছে। আর বিকাশ-রকেট হিসাব তো এখন প্রায় সবারই আছে। এ কারণে এসব চ্যানেলে আয় আসা বাড়ছে। মানুষও সহজেই টাকা বুঝে পাচ্ছে।’

সর্বস্তরের মানুষকে ব্যাংকিং সেবায় টানতে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশে চালু হয়েছিল নতুন ধাঁচের ব্যাংকিং সেবা এজেন্ট ব্যাংকিং। বর্তমানে ২৭টি ব্যাংক এই সেবা দিচ্ছে। সাত বছরে এই সেবার গ্রাহক বেড়ে এখন এক কোটির বেশি। গত মার্চে গ্রাহকসংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ ২২ হাজারে উন্নীত হয়েছে। আর এই সেবা দিতে দেশব্যাপী পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে ১৬ হাজারের বেশি এজেন্ট রয়েছে। আর গত জানুয়ারি-মার্চ সময়ে এজেন্টদের মাধ্যমে প্রবাসী আয় বিতরণ হয়েছে ৫৮ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা।

এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকেরা ছোট আকারের ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছে। টাকা জমা বা প্রবাসী আয় এলে তাৎক্ষণিক গ্রাহকের হিসাবে ব্যাংক থেকে খুদে বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে গ্রাহকেরাও এখন এই সেবার মাধ্যমে প্রবাসী আয় আনতে উৎসাহ বোধ করছেন।

এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় শীর্ষ রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, ডাচ্‌–বাংলা ও ইসলামী ব্যাংক। প্রচলিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আসছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রেও তাই।

ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেন, ‘ডাচ্‌–বাংলার শাখা থেকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এখন বেশি প্রবাসী আয় আসছে। কারণ, বাড়ির পাশ থেকে স্বজনেরা টাকা তুলতে পারছেন। আর মোবাইলে তাৎক্ষণিক টাকা আসার বার্তা চলে যাচ্ছে। ফলে এজেন্টদের মাধ্যমে প্রবাসী আয় আসা বেড়েছে।’

এদিকে গত মার্চে বিকাশ-রকেটের মাধ্যমে প্রবাসী আয় বিতরণ হয়েছে ১৮৪ কোটি টাকা, যা এপ্রিলে বেড়ে হয়েছে ২১২ কোটি টাকা।

তথ্য সুত্রঃ প্রথম আলো।

;